Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

অনলাইনে কোন পেশাগুলোর আয় সবচেয়ে বেশী।

আজকে আমরা ইন্টারনেটের জনপ্রিয় কিছু জব আইডিয়া সম্পর্কে জানবো যেগুলো চাইলে আপনি ঘরে বসেই শিখতে পারেন বা ঘরে বসেই করতে পারেন। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কোন না কোনো কিছু করতে হয় বা করতে চাই। কেউ কেউ ব্যবসা বাণিজ্য করতে চায় আবার কেউ অনলাইনে জব করতে চায়। যার যেটা ভালো লাগে সে সেটাই করবে।

শুরুর দিকে আমরা বুঝতে পারি না আমাদের জন্য কোন জবটা বেস্ট হবে। বা কি কি অনলাইনে জব অনলাইনে রয়েছে।





আপনারা যারা বুঝতে পারছেন না অনলাইনে কি কাজ করা যেতে পারে শুরুর দিকে তাদের জন্য এই আর্টিকেলটি। এই এয়ার্টিকালে দশটি জনপ্রিয় কিছু ইন্টারনেট ভিত্তিক যব আইডি নিয়ে কথা বলব।

১। টি-শার্ট ডিজাইন

প্রথমেই যে জবটি কথা বলবো সেটি হচ্ছে টি-শার্ট ডিজাইন। আমরা কমবেশি সবাই টি-শার্ট পড়ে থাকি। আমরা যত টি-শার্ট দেখতে পাই এর টি-শার্টগুলোর ডিজাইন কেউ না কেউ করেছে। আর তারাই হচ্ছে টি-শার্ট ডিজাইনার। যাদেরকে মূলত দেখা যায় না, দেখা যায় তাদের টি-শার্ট ডিজাইন।

আপনি চাইলে এই টি-শার্ট ডিজাইন করে অনলাইনে জব করতে পারেন। আপনার কি মনে হয় মানুষক কখনো টি-শার্ট কেনা বন্ধ করবে এটা কখনোই বন্ধ করবে না। এটা সারা জীবন ধরে চলবে।

আমরা সবাই জানি আমাজন একটি বড় মার্কেটপ্লেস। এখানে হাজার হাজার কাস্টমার প্রতিদিন আমাজনের ভিজিট করে কেনাকাটা করে থাকে।

অ্যামাজন শুধু টি-শার্টের জন্য তাদের একটি প্রোগ্রাম লঞ্চ করেছে। যেটির নাম হচ্ছে মার্চ বাই আমাজন। এই প্রোগ্রামের আওতায় একজন ডিজাইনার একটি অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে, তার একাউন্টে তার ডিজাইন করার টি-শার্ট সাবমিট করতে পারে। ডিজাইন করার টি শার্ট বলতে শুধুমাত্র ডিজাইনটা
সাবমিট করবে।

কোন কাস্টমার যখন সেই ডিজাইন করা টি-শার্ট অর্ডার করবে, আমাজন সেই ডিজাইন করা টি-শার্ট তৈরি করে তাদের গোডাউনে রাখবে এবং তাদের কাস্টমারকে সে টি-শার্টটি ডেলিভার করবে। এবং সেই ডিজাইন করার টি শার্ট যত সেল হবে আপনি তত রিভিউ পেতে থাকবেন।

এভাবে আপনি টি-শার্ট ডিজাইন করে অনলাইনে জব করতে পারেন।
অ্যামাজন ছাড়া আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যাদের টি-শার্ট ডিজাইন প্রয়োজন। আপনি তাদের টি-শার্ট ডিজাইন করে দিতে পারেন। এভাবে আপনি টি-শার্ট ডিজাইন করে, অনলাইনে একটি ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

২। লোগো ডিজাইন

আমরা আশেপাশের যত প্রতিষ্ঠান দেখে থাকি সবারই কিন্তু একটি করে লোগো রয়েছে। প্রতিষ্ঠান ছাড়া ইউটিউবে এখন হাজার হাজার ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ, ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে এ ছাড়া অনেক থার্টপার্টি ওয়েবসাইট রয়েছে, যাদের প্রজেক্ট শুরু করার জন্য একটি লোগো প্রয়োজন।

প্রতিনিয়ত হাজার হাজার কোম্পানি লঞ্চ হয়। সবগুলো হয়তো সাকসেস হয় না কিন্তু শুরু করার জন্য একটি লোগো অবশ্যই প্রয়োজন। আর সেই লোগোগুলো ডিজাইন করে একজন লোগো ডিজাইনার। পূর্বেও লোগো ডিজাইনারদের অনেক চাহিদা ছিল, ভবিষ্যতেও লোগো ডিজাইনারদের অনেক চাহিদা থাকবে।

আপনি যদি লোগো ডিজাইন শিখে নিতে পারেন তাহলে আপনাকে কোনদিন জব ছাড়া থাকতে হবে না। অনলাইনে অফলাইনে সব জায়গাতেই লোগো ডিজাইনারদের অনেক চাহিদা রয়েছে। আপনি চাইলে অনলাইনে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে লোগো ডিজাইন করে সেল করতে পারেন। অথবা নিজের একটি পোর্টফলিও ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে লোগো সেল করতে পারেন।

এভাবে আপনি লোগো ডিজাইন করে অথবা লোগো সেল করার মাধ্যমে অনলাইন একটি ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

৩। ফটো এডিটিং

আপনারা যারা সহজ কাজ খুজতেছেন, তাদের জন্য ফটো এডিটিং হতে পারে ভালো অপশন। অন্যান্য কাজের তুলনায় ফটো এডিটিং কাজটি অনেক সহজ হয়ে থাকে। তবে ফটো এডিটিং এর অনেক হাই লেভেল কাজ রয়েছে, তবে বেসিক কিছু কাজ শিখেও এই সেক্টরে কাজ করা যেতে পারে।

আমরা তো সবাই জানি অ্যামাজন আলী এক্সপ্রেস হাজার হাজার সেলার রয়েছে, অনেক কোম্পানি রয়েছে তাদের পণ্যগুলোকে অ্যামাজন আলী এক্সপ্রেসে সেল করছে। এছাড়া অনেক থার্ড পার্টি ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে সেলাররা বিভিন্ন পণ্য অফার দিয়ে থাকে।

এই পণ্যগুলোর ছবি তুলেই সাথে সাথে আপলোড করে দেওয়া হয় না। এগুলো প্রথমে ছবি তুলে এরপরে ভালোভাবে এডিট করে তারপরে পণ্যগুলো সেল করার জন্য তৈরি করা হয়। যেন কাস্টমাররা প্রোডাক্ট কেনার পূর্বে ভালোভাবে প্রোডাক্টটি দেখে নিতে পারে। আর এখানেই ফটো এডিটিং এর একটি বিশাল চাহিদা রয়েছে।

সেই সব সেরাররা ফটো এডিটিং এর হায়ার করে থাকে সেইসব পণ্যের ছবিগুলো এডিট করার জন্য তো প্রোডাক্ট ফটো এডিটিং কাজ করার মাধ্যমে আপনি একজন ফটো এডিটর হিসাবে অনলাইনে একটি ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

এই সমস্ত সেরারগুলি পণ্যের ফটো এডিটিং করার জন্য ফটো এডিটর নিয়োগ করে, তাই পণ্যের ফটো এডিটিং কাজ করে, আপনি অনলাইনে ফটো এডিটর হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

আপনি চাইলে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস এ কাজ করতে পারেন, অথবা আপনি একটি ফেসবুক পেজে বা পোর্টফলিয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি অনলাইনে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

৪। মোশন গ্রাফিক্স

বিভিন্ন ভিডিওতে আপনারা অনেক ধরনের এনিমেশন দেখতে পাই। যেমন লোয়ার থার্ড এনিমেটেড, ট্রান্সিশন, এলিমেটেড টাইটেল, বিশেষ করে ক্রিকেট ফুটবল খেলা দেখার সময় দেখতে পাবেন। এই অ্যানিমেশন ইফেক্টগুলোকে মোশন গ্রাফিক্স বলে হয়।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যগুলোকে সহজে প্রেজেন্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরনের এনিমেটেড ভিডিও তৈরি করে থাকে। ইউটিউবে আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন বিভিন্ন চ্যানেলে ইন্ট্রো ভিডিও দেখা যায়। এই সকল কাজই হচ্ছে মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের। এই কাজগুলোর অনলাইনে অনেক চাহিদা রয়েছে। আপনি কয়েকটা সফটওয়্যার শিখে মোশন গ্রাফিক্সে আপনার ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

মোশন গ্রাফিক্স শিখতে হলে আপনাকে এডোবি ফটোশপ, এডোবি ইলাস্ট্রেটর, অ্যাডোব প্রিমিয়ার প্রো, আরো অনেক সফটওয়্যার এর ব্যবহার শিখতে হবে। এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন এর সম্পর্কেও কিছুটা নলেজ রাখতে হয়। কারণ গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং অ্যানিমেশন এই দুইটা মিলে মোশন গ্রাফিক্স ভিডিও তৈরি করা হয়।

৫। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনকে সংক্ষেপে এসইও বলা হয়। একটি ওয়েবসাইটকে গুগলে রেংকিং করানোর জন্য তার এসইও করতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওয়েবসাইটের মালিকের হাতে এতো সময় থাকে না। যে তারা তাদের ওয়েবসাইটের এসিও করবে, তাই তারা এসইও এক্সপার্টদের হায়ার করে থাকে। তাদের ওয়েবসাইট এসইও করার জন্য।

গুগলের মতে প্রতিদিন প্রায় ৫ বিলিয়নের মত গুগলে সার্চ করা হয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার জন্য, তাই একটি ওয়েবসাইটকে রাঙ্ক করাতে পারলে অনেক ইউনিট ডিজিটর পাওয়া যায়। তাই অনলাইনে এসইও এক্সপার্টদের অনেক চাহিদা রয়েছে।

একটি এসইও এক্সপার্টদের কয়েকটি বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করতে হয়। যেমন,

  • কনটেন্ট রাইটিং
  • কন্টেন মার্কেটিং
  • অন পেজ এসইও
  • অফ পেজ এসইও
  • লিংক বিল্ডিং

এবং ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের সম্পর্কে একটি বেসিক ধারণা থাকতে হয়।প্রফেশনাল ডেভলপার হওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু একটি ওয়েবসাইট কিভাবে সেটাপ করতে হয়। কিভাবে পেজগুলো কাজ করে খুব ভালোভাবে জানতে হয় বিশেষ করে ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যবহার খুব ভালোভাবে জানতে হয়। আপনি এসইও শিখে অনলাইনে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

৬। ওয়েবসাইট ফ্লিপিং

প্রথমেই আমরা জানি ওয়েবসাইট ফিলিপিং কি ?

ধরন, আপনি অনলাইনে কাজ করার পরেও আপনার হাতে কিছুটা সময় আছে আপনি চাইলে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। এবং সেই ওয়েবসাইটে আপনার ডিজাইন করা কনটেন্ট, রিসার্চ পাবলিশ করতে পারেন। তখন আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আসা শুরু করলেন, সেই ওয়েবসাইটের একটি ভ্যালু তৈরি হবে।

পরবর্তীতে আপনি সেই ওয়েবসাইটটি বিক্রি করে দিতে পারবেন। ওয়েবসাইট বিক্রি করার জন্য অনেক মার্কেট প্লেস আছে তার মধ্যে জনপ্রিয় একটি মার্কেট প্লেস হল ফ্লিপ্পা।

ফ্লিপ্পা মার্কেট প্লেস এর মত আরও অনেক জনপ্রিয় মার্কেট প্লেস আছে, যেখানে ডিজিটাল প্রপার্টি কেনা বেচা হয়। ডিজিটাল প্রপার্টি বলতে যেমন, ওয়েবসাইট একটি ডিজিটাল প্রপার্টি , অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ গেম এগুলো ডিজিটাল প্রপার্টি। আপনি এই জবটি আপনার প্রাইমারি জব হিসেবে না নিয়ে সেকেন্ডারি জব হিসাবে নিতে পারেন।

এই ছিল আজকের মত কিছু জব আইডিয়া। কিছুটা হলেও আপনি আইডিয়া পেয়েছেন। আপনি দক্ষতা শিখে আপনার পছন্দের কাজটি করতে পারেন এবং অনলাইনে একটি ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন এবং যদি আপনি এই আর্টিকেলটি পছন্দ করেন, তবে অবশ্যই মন্তব্য করুন এবং আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ