Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিট করার সেরা ৫ টি অ্যাপ।

আসসালামু আলাইকুম, আমি এই পোস্টে আপনাদের মাঝে সেরা পাঁচটি ভিডিও এডিটিং অ্যাপ এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। এই অ্যাপ গুলোর মাধ্যমে আপনি খুব সহজে এবং আপনার নিজের মত করে ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন। আপনি চাইলে প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

আমরা ২০২২ সালের জন্য সেরা অ্যান্ড্রয়েড ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এর একটি তালিকা করেছি যা গুগল প্লে স্টোরে  ও অ্যাপ স্টোর থেকে আপনি বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন।

এই অ্যাপ্লিকেশন গুলোর সাহায্যে আপনি ভিডিও এডিটিং করে সেগুলো ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম টুইটার অথবা ইউটিউবে আপলোড করতে পারবেন।



১। কাইনমাস্টার


আমরা যারা ভিডিও এডিটিং নিয়ে একটু হলেও ঘাটাঘাটি করেছি তাদের কাছে পরিচিত একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এর নাম হলো কাইনমাস্টার। কাইনমাস্টার অ্যাপ্লিকেশনটিতে রয়েছে অডিও ফিল্টার, ভিডিও ইফেক্ট এবং আরো অনেক কিছু যেগুলো দিয়ে আপনি যে কোন ভিডিও প্রফেশনাল লুক দিতে পারবেন।

কাইনমাস্টারে একটি মজার ফিচার হল আপনি চাইলে যে কোন গ্রিন স্কিন  রিমুভ করে আপনি সেই ভিডিওতে ভিডিও ছবি এড করতে পারবেন। কম্পিউটার দিয়ে যেভাবে গ্রীন স্ক্রিন রিমুভ করে আপনিও ঠিক সেভাবেই কাইনমাস্টার দিয়ে গ্রীন স্কিন রিমুভ করতে পারবেন।

কাইনমাস্টার  অ্যাপ দিয়ে ঠিক কম্পিউটার এর মত টাইমলাইন পদ্ধতিতে ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন  আপনার ইচ্ছা মত ভিডিও ক্লিপস ইমেজ দিয়ে কিন্তু ভিডিও তৈরি করতে পারবেন এবং ভিডিও এডিট এর জন্য অনেক কিছু আপনি পাবেন কাইনমাস্টার অ্যাপটির  ভিতরে অনেক টেক্সট ও অ্যাড করতে পারবেন। আপনি এই অ্যাপটির সাহায্যে ভিডিওর সাবটাইটেল এড করতে পারবেন। এটি দিয়ে আপনি পুরোপুরি কম্পিউটারের মতো ফিল পাবেন।

আপনি যদি প্লে স্টোর থেকে এই অ্যাপটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করেন এবং কোন ভিডিও রেন্ডার দেন তাহলে কিন্তু ভিডিওতে ওয়াটার মার্ক চলে আসবে এজন্য আপনাকে এই অ্যাপটি ডলার দিয়ে কিনে নিতে হবে। আপনি চাইলে ফ্রি ভার্সনেও ব্যবহার করতে পারেন। সে জন্য আপনাকে একটু কষ্ট করে ইউটিউবে সার্চ দিতে হবে কিভাবে কাইনমাস্টার ফিরিতে ব্যবহার করা যায়।

কাইনমাস্টার অ্যাপ ডাউনলোড করুন – অ্যান্ড্রয়েড / আইওএস


২। ফিল্মোরা গো






আপনি যদি পরিপূর্ণ একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনাকে ফিল্মোরা গো অবশ্যই ফোনে ইন্সটল করতে হবে কারণ কারণ ফিল্মোরা গো এই অ্যাপটিতে আপনি পাবেন প্রচুর পরিমাণে টুলস ফিচার যেগুলো দিয়ে আপনি একটি প্রফেশনাল ভিডিও তৈরি করতে পারবেন খুব সহজে।

ফিল্মোরা গো এর সবচেয়ে বড় যে সুবিধাটি পাওয়া যায় সেটি হচ্ছে তাদের একটি লাইব্রেরি আছে যেখান থেকে আপনি মিউজিক নিয়ে সেই মিউজিক দিয়ে ভিডিও তৈরি করে আপনি ইউটিউব ফেসবুক এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও আপনার সেই ভিডিওটি আপলোড করতে পারবেন এজন্য কিন্তু কোন কপিরাইট এর ঝামেলায় পড়বেন না।

ফিল্মোরা গো এই অ্যাপটি বেশিরভাগ ব্যবহারকারী পার্মানেন্ট ভাবে ব্যবহার করা শুরু করেছে। আপনার ভিডিও সুন্দর করতে আপনি এই ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ১.১ স্কয়ার ভিডিও তৈরি করতে পারবেন ইনস্টাগ্রামের জন্য। ইউটিউব এর জন্য আপনি ১৬.৯ ভিডিও তৈরি করতে পারবেন এবং আপনি সেই ভিডিওতে স্লো-মোশন এবং ফাস্ট যুক্ত করতে পারবেন। আপনার ভিডিও সুন্দর করার জন্য।

ফিল্মোরা গো একটি প্রফেশনাল কম্পিউটার ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এবং পরবর্তীতে এটি মোবাইল ভার্সনও চলে এসেছে। আপনি ৪০ টি ফিল্টার ২৫ ট্রান্সমিশন এবং প্রায় ৩০০ টি ফ্রন্ট ব্যবহার করতে পারবেন এবং আপনি চাইলে ভয়েস ওভারও দিতে পারবেন।

ফিল্মোরা গো অ্যাপ ডাউনলোড করুন – অ্যান্ড্রয়েড / আইওএস


৩। পাওয়ার ডিরেক্টর






পাওয়ার ডিরেক্টর হল একটি পরিপূর্ণ অ্যান্ড্রয়েড ভিডিও এডিটিং অ্যাপ্লিকেশন। কাইনমাস্টারের সাথে পাওয়ার ডিরেক্টর অনেকটাই মিলে যায় অর্থাৎ কাইনমাস্টার এবং পাওয়ার ডিরেক্টর একই ধরনের সার্ভিস প্রদান করে থাকে। তবে কাইনমাস্টার থেকে পাওয়ার ডিরেক্টর অনেক এডভান্স ফিচার দিয়ে থাকে।

পাওয়ার ডিরেক্টর এই অ্যাপটির মাধ্যমে আপনি ফোর কে রেজুলেশন এর ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। পাওয়ার ডিরেক্টর অ্যাপ এর পারফরমেন্সের দিক বিবেচনা করলে মোবাইল ভিডিও এডিটিং এর ক্ষেত্রে পাওয়ার ডিরেক্টর হল বেস্ট। এটি ব্যবহার করলে কম্পিউটার যেরকম প্রফেশনাল লুক দেওয়া যায় আপনিও ঠিক পাওয়ার ডিরেক্টর দিয়ে আপনার ভিডিওতে প্রফেশনাল লোক দিতে পারবেন।

সব রকম কাজই করা যায় পাওয়ার ডিরেক্টর সফটওয়্যারটির মাধ্যমে আপনি যদি এটি ডাউনলোড করতে চান তাহলে আপনি প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোরে পেয়ে যাবেন এবং এটি সম্পূর্ণ ফ্রী একটি অ্যাপ

পাওয়ারডিরেক্টর অ্যাপ ডাউনলোড করুন – অ্যান্ড্রয়েড / আইওএস


৪। ইনশট




ইনশট হল মোস্ট পপুলার একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। পারসোনাল ভাবে আমি ইনশট ব্যবহার করে থাকি। ইনশট দিয়ে আপনি খুব সহজে যেকোনো ভিডিও এডিট করতে পারবেন এবং তাদের লাইব্রেরী থেকে মিউজিক নিয়েও আপনার ভিডিওতে ব্যবহার করতে পারবেন। 

এই অ্যাপটিতে আমার সবচেয়ে যে ফিচারটি ভালো লেগেছে সেটি হচ্ছে আপনি প্রফেশনাল কালার গ্রেডিং করতে পারবেন। আপনি যদি একজন প্রফেশনাল ভিডিও এডিটর হতে চান এবং আপনি যদি প্রফেশনাল মানের ভিডিও তৈরি করতে চান। তাহলে আপনাকে অবশ্যই কালারগার্ডিং এর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

কালার গেটিং করার জন্য বেস্ট সফটওয়্যার হল ইনশট। আপনি এই সফটওয়্যার দিয়ে প্রোফেশনাল লুক এ আপনি কালার গেডিং করতে পারবেন। কালার গ্রেডিং এর পাশাপাশি আপনি নয়েজ রিমুভ শ্যাডো হাইলাইটস এরকম আরো অনেক ফিচার পাবেন. যেগুলো দিয়ে আপনি অনেক সুন্দর এবং প্রফেশনাল মানের ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।

আপনি প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোর থেকে ইনশট অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনি যদি ফ্রিতে ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনার ভিডিওতে ওয়াটার মার্ক চলে আসবে এজন্য আপনাকে ইনশট অ্যাপটি ডলার দিয়ে কিনে নিতে হবে।

ইনশট অ্যাপ ডাউনলোড করুন – অ্যান্ড্রয়েড / আইওএস


৫। এডোবি প্রিমিয়ার রাশ






এটি একটি ফ্রি মোবাইল ভিডিও এডিটিং অ্যাপ্লিকেশন এই সফটওয়্যারটি ফ্রি হলেও এখানে অনেক প্রিমিয়াম ফিচার পাওয়া যায়। এই অ্যাপটি অনেক লাইট ওয়েট এবং পাওয়ারফুল একটি অ্যাপ্লিকেশন।

আপনি প্রফেশনাল মানের ভিডিও তৈরি করার ক্ষেত্রে এরকম আর একটা সফটওয়্যার আপনি পাবেন না। এর সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হল আপনি এখান থেকে ভিডিও তৈরি করে সরাসরি অনলাইনে আপলোড করে দিতে পারবেন। 

যে রকম ফেসবুক টুইটার ইনস্টাগ্রাম এবং আপনার ওয়েবসাইটে আপনি এখান থেকে সরাসরি আপলোড করতে পারবেন। তাদের অনেক প্রিমিয়ার লাইব্রেরী আছে যেখান থেকে আপনি আপনার ইচ্ছে মতো ইফেক্ট এবং ট্রানজিশন ডাউনলোড করে আপনার ভিডিওতে ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়াও তাদের লাইব্রেরী থেকে আপনি ফ্রি ভিডিও অডিও এবং এনিমেশন ভিডিও ডাউনলোড করতে পারবেন সম্পূর্ণ ফ্রিতে। সেগুলো ব্যবহার করতে আপনাকে কোন কপিরাইট ঝামেলায় পড়তে হবে না

আপনি এই সফটওয়্যারটি প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে ফ্রিতে ডাউনলোড করতে পারবেন এর জন্য আপনাকে কোন টাকা খরচ করতে হবে না এটি একটি সম্পূর্ণ ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন।

এডোবি প্রিমিয়ার রাশ অ্যাপ ডাউনলোড করুন – অ্যান্ড্রয়েড / আইওএস

সর্বশেষ


আশা করি আমি আপনাকে এই পোষ্টের মাধ্যমে সেরা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ গুলো সম্পর্কে একটি ধারণা দিতে পেরেছি। আপনি যদি উপরের ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করেন এবং আপনার সামাজিক মিডিয়াতে আপনার ভিডিও সেই ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি করে প্রকাশ করেন তাহলে তার পলিটি কিন্তু আর অন্য কনটেন্ট থেকে কোন দিক থেকে কিন্তু কম হবে না।

আজ এই পর্যন্তই। আবার ও হাজির হবো নতুন কিছু নিয়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ