২০২২ সালে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। যে ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেনা। আমরা সবাই ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করি। আমরা অনেক সময় দেখি কোন সেলিব্রেটি অথবা আপনার কোন বন্ধু সুন্দর একটি ফটো ফেসবুক অথবা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করেছেন।
সেই ফটোটি দেখে আপনি মনে মনে ভাবতে থাকেন। আমার ডিএসএলআর ক্যামেরার এবং দামি মোবাইল থাকা সত্বেও আমি কেন এত সুন্দর ছবি ফেসবুকে ইনস্টাগ্রামে আপলোড করতে পারি না।
এর কারণ হল আপনি ছবি তুলে সেটা ফেসবুকে ইনস্টাগ্রামে আপলোড করে দেন। কোন ছবি আপনি এডিট করেন না।
আপনি যদি কারো কাছে জিজ্ঞেস করেন যে আপনি এত সুন্দর ছবি কিভাবে ফেসবুকে আপলোড করেছেন। তাহলে সে বলবে যে আমি ছবিটি তুলে ছবিটি এডিট করে ফেসবুকে ইনস্টাগ্রামে আপলোড করেছি। তাহলে আপনি বুঝতে পারছেন তারা কিভাবে এত সুন্দর ছবি ফেসবুকে ইনস্টাগ্রামে আপলোড করে।
এই পোস্টে আমি সেরা পাঁচটি ফটো এডিটিং অ্যাপ এর সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব। যেটির মাধ্যমে আপনি যেকোন ছবি একদম এডিট করে প্রফেশনাল লুক দিতে পারেন। আপনি চাইলে এই পাঁচটি ফটো এডিটিং অ্যাপ প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে ফ্রি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
১। স্ন্যাপসিড
প্রথমে যে অ্যাপটির কথা বলব সেটি হচ্ছে স্ন্যাপসিড। স্ন্যাপসিড লিখে আপনি যদি প্লে স্টোরে সার্চ দেন তাহলে স্ন্যাপসিড এই অ্যাপটি চলে আসবে। স্ন্যাপসিড অ্যাপটি গুগল ২০১২ সালে ৬ ডিসেম্বর প্লে স্টোরে রিলেজ করে।
অত্যাধুনিক মানের ও ভালো ভালো ফিচারস এর কারণে খুব কম সময়ে এই অ্যাপটি অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই অ্যাপটি কতটা জনপ্রিয় তা এই অ্যাপের প্লে স্টোরেটিং দেখলে বোঝা যায়। এই অ্যাপটি প্রায় ১০০ মিলনের এর বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে এ পর্যন্ত।
এই অ্যাপটির মধ্যে আপনি পেয়ে যাবেন ২৯ টি নতুন টুল ও ফিল্টার যার মধ্যে রয়েছে হেলইন, ব্রাস আর অটোমেটিক ম্যানুয়াল কালার আরো অনেক কিছু।
আপনি চাইলে এই অ্যাপটির মাধ্যমে ইসমুদ ভাবে আপনার ফটো ক্রপ ও রোটেট করতে পারবেন এবং যে কোন ফটোতে আপনি টেক্সটও যুক্ত করতে পারবেন। আপনি চাইলে আপনার ফটোতে বোলার এড করতে পারবেন।
এই অ্যাপটি ছবি এডিট করার জন্য ইউজার ফ্রেন্ডলি হওয়ার কারণে যেকোনো বয়সের মানুষ খুব সহজে ব্যবহার করতে পারে। আপনি অনেক মজা পাবেন যদি আপনি এর সঠিক ব্যবহার করতে পারেন। আর আপনি এই অ্যাপটির মাধ্যমে যেকোনো ছবি প্রফেশনাল লুক দিতে পারবেন।
স্ন্যাপসিড অ্যাপ ডাউনলোড করুন – অ্যান্ড্রয়েড / আইওএস
২। অ্যাডোব লাইটরুম
এখন যে একটা কথা বলব সেটি হচ্ছে এডোবি লাইটরুম অ্যাডোবের কোম্পানির একটি সফটওয়্যার তাহলে বুঝতে পারছেন যে এই সফটওয়্যারটা কতটা জনপ্রিয়।
এডোবি লাইটরুম পার্সোনাল ভাবে আমি ব্যবহার করি এবং আমি এডোবি লাইটরুম দিয়ে অতটা ভালো ছবি এডিট না করতে পারলেও যারা প্রফেশনাল ভাবে ছবি এডিট করে থাকে তাদের কাছে এডোবি লাইটরুম হচ্ছে বেস্ট অফ দা ফটো এডিটিং অ্যাপ।
এডোবি লাইটরুম দিয়ে আপনি প্রফেশনাল মানের ছবি এডিট করতে পারবেন। এছাড়া ফটো এডিটিং ছাড়াও আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হল আপনি এই এডোবি লাইটরুম দিয়েও ছবি তুলতে পারবেন অনেক এডভান্স ক্যামেরা মাধ্যমে।
এডোবি লাইটরুম অন্যান্য অ্যাপের তুলনায় অনেক বেশি ফাস্ট এবং ইউজার ফুল ইন্টারফেস এডোবি লাইটরুম আপনি প্লে স্টোরে পেয়ে যাবেন প্লে স্টোরে ডাউনলোড করার পরে আপনি এখান থেকে সব অপশন ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু প্রিমিয়াম দুইটা ফিচারস আছে যেগুলো আপনি ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন না। সেজন্য আপনাকে ডলার দিয়ে সে দুইটা ফিচার কিনে নিতে হবে। বর্তমানে এডোবি লাইটরুম ১০০ মিলিয়ন এর বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে।
এডোবি লাইটরুম এর যে ফিচারটি আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে সেইটি হচ্ছে আপনি চাইলে এই সফটওয়্যার এর মাধ্যমে খুব সহজে আপনার যে কোন ফটো এর ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ করতে পারবেন এবং সেখানে আপনি যেকোনো ব্যাকগ্রাউন্ড দিতে পারবেন।
ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ করার পাশাপাশি আপনি এডোবি লাইটরুম দিয়ে প্রফেশনাল মানের কালার করতে পারবেন।
৩। ক্যানভা
ক্যানভা অ্যাপটি মূলত যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন বা লোগো ডিজাইন করে থাকে তাদের জন্য। আসলে একটি প্রফেশনাল ফটো এডিটিং অ্যাপ্লিকেশন। এটা দিয়ে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন থেকে শুরু করে যে কোন লোগো তৈরি করতে পারবেন খুব সহজে।
আপনি চাইলে আপনার ফেসবুক পেজ এর কভার ফটো ইউটিউব এর কভার ফটো ওয়েবসাইটের জন্য ব্যানার আপনি কিন্তু এই কেন বা অ্যাপটি দিয়ে খুব সহজে তৈরি করতে পারবেন। বিশেষ করে বেশির ভাগ ফেসবুক কভার ইউটিউব কভার বা ওয়েবসাইটের ব্যানার গুলো এই অ্যাপটি দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে।
এছাড়া মোবাইল বা ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলো এর মাধ্যমে দারুণ ভাবে এডিট করতে পারবেন। এই অ্যাপে রয়েছে ইনস্টাগ্রাম স্টোরি টেমপ্লেট, ইন্সট্রাগ্রাম হাইলাইট কভার টেমপ্লেট ইত্যাদি। এছাড়া এই অ্যাপ্লিকেশনে প্রচুর পরিমাণে টেমপ্লেট আপনি পেয়ে যাবেন।
আপনি চাইলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার ছবি পোস্টের জন্য এলিমিটেড পোস্ট টেমপ্লেটও পেয়ে যাবেন। এই অ্যাপ্লিকেশনের এর ভিতরে এছাড়া আপনি ফাংশন যেমন ইউটিউব ইনটু তৈরি ইনস্টাগ্রাম কুইজ বানানো ইত্যাদি। আপনি এই অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে তৈরি করতে পারবেন।
ক্যামেরা একটি বর্তমানে ১০০ মিলনের বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে। আপনি চাইলে প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ক্যানভা অ্যাপ্লিকেশনটি খুব সহজে ডাউনলোড করতে পারবেন সম্পূর্ণ ফ্রিতে।
৪। পিক্সেল ল্যাব
এই অ্যাপটি নিজের ব্যক্তিগত কাজের জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন. এই একটি খুব জনপ্রিয়।
এই একটি বিশেষ করে যারা ভিডিও মেক করে তাদের কাছে খুব জনপ্রিয়।
আপনি এই অ্যাপটির মাধ্যমে ফটো এডিটিং থেকে শুরু করে ইউটিউব এর থামলেন চ্যানেলের আর্ট এবং যেকোনো ব্যানার তৈরি করতে পারবেন খুব সহজে। দারুন দারুন ডিজাইনও করতে পারবেন।
এই অ্যাপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি এই অ্যাপ দিয়ে থ্রিডি টেক্সট তৈরি করতে পারবেন। আপনি এই অ্যাপ দিয়ে ফটোর উপরে নরমাল টেক্সট এর জন্য শ্যাডো ইনার শ্যাডো স্টক ব্যাকগ্রাউন্ড ইত্যাদি সুবিধা পাবেন। এছাড়া এই অ্যাপ দিয়ে আপনি মেমো তৈরি করতে পারবেন।
বর্তমানে এই অ্যাপটি ৫০ মিলিয়নের এরবেশি প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা হয়েছে।পার্সোনাল ভাবে এই অ্যাপটি আমি ব্যবহার করে থাকি। আমার ইউটিউব থামলেন এবং আপনি যে পিকচার গুলো দেখবেন আমার এই পোস্টটি সেগুলো কিন্তু এই অ্যাপ দিয়ে তৈরি করা।
আপনি চাইলে প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোর থেকে ফ্রিতে ডাউনলোড করতে পারবেন. এই অ্যাপটি সবচেয়ে সুবিধা হল এটি আপনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন. এজন্য আপনাকে কোন টাকা খরচ করতে হবে না এবং কোন ফটোর উপর ওয়াটার মার্ক আসবে না।এটি একটি সম্পূর্ণ ফ্রি এপ্লিকেশন।
৫। পিকসার্ট
বর্তমানে গুগল প্লে স্টোরে ফটো এডিটিং করার ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া অ্যাপটি হলো পিকসার্ট।
এই একটি শুধুমাত্র ফটো এডিটিং করার জন্য নয় তবে এটাকে আপনি প্রায় অলরাউন্ডার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন এর সাথে রয়েছে ভিডিও এডিটিং এবং স্টিকার তৈরি ও নিজের মতো করে ড্রয়িং করার মত সুবিধা।
এই একটি বর্তমানে ৫০০ মিলনের বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে প্লে স্টোর থেকে।
আপনি চাইলে এই ফটো এডিটিং অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে আপনার যে কোন ফটোর ব্যাকগ্রাউন্ডকে বোলার করতে পারবেন এবং আপনার ফটোর উপর লেখা যোগ করার জন্য 200 এর বেশি ফন্ট ব্যবহার করতে পারবেন সম্পূর্ণ ফ্রিতে।
আপনি চাইলে এই অ্যাপটি সম্পূর্ণ ফ্রিতে গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন।
সর্বশেষ
তাহলে আশা করছি মোবাইল দিয়ে ছবি এডিটিং করার সফটওয়্যার গুলো আপনাদের অবশ্যই পছন্দ হয়েছে আমি প্রত্যেকটা ফটো এডিট অ্যাপ গুলো ডাউনলোড লিংক আমি দিয়ে দিয়েছি তাই একে করে অ্যাপ্লিকেশন গুলো নিজের মোবাইলে ডাউনলোড করে ব্যবহার করে দেখুন
অবশ্যই আপনি একজন প্রফেশনাল ফটো এডিটর হতে পারবেন
সর্বশেষ কথা হল আপনি প্রত্যেকটা ফটো এডিট সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ব্যবহার করবেন আপনার যেটা ভালো লাগবে আপনি সেটা নিয়েই কাজ করা শুরু করবেন
আপনি যদি একসাথে পাঁচটা ফটো এডিটিং সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনি কোন সময় একজন প্রফেশনাল এডিটর হতে পারবেন না তাই আপনাকে যে কোন একটি সফটওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে
আমার এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন ধন্যবাদ।







1 মন্তব্যসমূহ
Thanks
উত্তরমুছুন